বিয়োগের শোক ও নতুন উপাখ্যান : পর্ব ২
প্রতিটা
বিয়োগেই শুরু হয় নতুন উপাখ্যান। সব জায়গায় বন্ধন খুঁজতে চাওয়াটা হলো হমো
সেপিয়েন্স এর একটা ডিজঅর্ডার। আমি প্রতিটা প্রানের সাথে আরেকটি প্রানের
বন্ধন বিবেচনা করব। একটি বিড়াল, কুকুর মারা গেলেও তো আমার চোখে জল আসে সেকি
আমার সম্পর্কের কেউ। আমাকে সব মৃত্যু ব্যথিত করে না। একটা উল্কাপিণ্ড যখন
পৃথিবীর বুকে পড়ে তখন তার যে গর্ত সৃষ্টি হয় সেটা পূরণ করে পানি তৈরি হয়
প্রকাণ্ড জলাধার । ঠিক এভাবেই প্রতিটা বিয়োগ আমাকে কষ্ট দেয়। শুরু হয় নতুন
উপাখ্যান। মানষ প্রতি নিয়ত জগতের সব কবি সাহিত্যিকদের কথায় নিজেদেরকে
হারিয়ে ফেলে। কারন সেগুলো শুনতে তার ভালো লাগে। এবং সেগুলো তার কষ্টগুলোকে
লাগব করে। কিন্তু কেউ চেষ্টা করেনা নিজেই কিভাবে নিজের কষ্টগুলোকে লাগব
করবে। অন্যের আশায় থাকে। একটা অসহায় মানুষকে দেখলে আমাদের মায়া লাগে। যখন
না খেয়ে একটা মানুষ মারা যায় তার জন্য চোখে জল আসে। এটাতে কোন রক্তের
সম্পর্কের প্রয়োজন পড়ে না। একটা আহত বোবা প্রানি দেখলে মায়া হয় এটাও তেমনি।
রবীন্দ্রনাথের "অথিতির স্মৃতি " প্রবন্ধটি পড়ে চোখে জল এসেছিল। মানুষ আর
কুকুরের একটা অব্যক্ত সম্পর্ক গল্পের টুইস্ট। মানুষের প্রতি মানুষের
ভালবাসা ও বন্ধন আজকাল কেবলই নিয়ম রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই জায়গাটি
দখল করে নিয়েছে পশু পাখির প্রতি মানুষের ভালবাসা। কি অদ্ভুত ভাবে নিজেদের
কর্তৃত্ব ছেড়ে দিয়েছে এই একটি জায়গায়। নিজেকে আজকাল মানুষ পরিচয় দিতে লজ্জা
লাগে। একটা বিষয় কখনও ভেবে দেখেছেন কি? এক টুকরা লোহার দন্ড যখন খোলা
জায়গায় দীর্ঘ দিন পড়ে থাকে মরিচিকা কিভাবে তাকে আঁকড়ে ধরে। তখন সে এই
মরিচিকা গুলোই তার অস্তিত্ব। একটা পর্যায় পর লোহার দন্ডটি ইরিভার্সিবল হয়ে
যায়। তখন সে ইচ্ছে করেই মরিচায় পরিণত হতে চায়।

Comments
Post a Comment