ডাকসু পরিচিতি

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ইংরেজিতে Dhaka University Central Students’ Union (DUCSU) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাত্র-ছাত্রীদের কেন্দ্রীয় সংসদ, যা শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলেছে। এছাড়াও ডাকসু বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং বঙ্গবন্ধুর সমৃদ্ধির সোনার বাংলাদেশ গড়তে ঐতিহাসিকভাবেই অন্যতম অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই ১৯২২ সালে এর ছাত্র সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯২২ সালের ১লা ডিসেম্বর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের একটি সভায় ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ’ নামে একটি ছাত্র সংসদ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী পরিষদ পূর্বোল্লিখিত শিক্ষক সভার সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়। ১৯২৫ সালের ৩০ অক্টোবর সংসদের সাধারণ সভায় খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিষদ তা অনুমোদন করে। পরবর্তীতে ১৯২৪-২৫ অধিবেশনে ডাকসুর সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। ১৯৫৩ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ (ডাকসু) রাখা হয় এবং সে বছরই প্রথম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ডাকসুর নিতৃবৃন্দ নির্বাচন করা হয়। ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হল – ঢাকা হল, জগন্নাথ হল এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে একজন করে শিক্ষক এবং ছাত্র প্রতিনিধি এবং উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত একজন শিক্ষকের মাধ্যমে ডাকসুর নেতৃত্ব গঠিত হতো। এরপর থেকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চায় ডাকসু সর্বদা অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করেছে।

অতঃপর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোনলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে চালিকাশক্তির ভূমিকায় ছিলো এই সংসদ। ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ডাকসু নেতৃবৃন্দ প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এছাড়াও ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ডাকসু অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করে। তবে ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং এই সময়ে ডাকসুর কোনো কার্যনির্বাহী পরিষদও মনোনীত হয় নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে পুণরায় ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনে সমন্বিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।

১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে ডাকসু’র কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদাধিকারবলে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক সহ ১৬ জন নেতৃবৃন্দ নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে সংশোধিত ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর নির্বাহী পরিষদে মোট ২৪ জন সদস্য নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। বিগত ১১ মার্চ, ২০১৯ ইং তারিখে দীর্ঘ ২৯ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যহত থাকে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ডাকসু বদ্ধপরিকর।

Comments

Popular posts from this blog

বদলে যাবার আগে

ডিজিটাল বাংলাদেশের অনলাইন নির্ভর নাগরিক সেবার ময়নাতদন্ত!

I, PET GOAT 2 তে দেখানো মসজিদটি কি আল আকসা নাকি হায়া সোফিয়া?